সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন
‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, বন্দে মায়া লাগাইছে, বসন্ত বাতাসে’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম। আজ তার ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৯ সালের এই দিনে ৯৩ বছর বয়সে সিলেট নগরে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরপারে পাড়ি জমান বাংলা লোকগানের এই কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী।
দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের পাশাপাশি ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সংগ্রাম, সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসা, ন্যায়-অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সৃষ্টিতত্ত¡, নবীতত্ত¡, রাধাকৃষ্ণতত্ত¡, মুর্শিদি, মারফতি, ভক্তিগীতি, মনশিক্ষা, দেহতত্ত¡, কারবালাতত্ত¡, বিরহ, বিচ্ছেদ, দেশাত্মবোধক, সমাজ বিনির্মাণ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে তিনি অসংখ্য গান রচনা করেছেন এবং আজীবন গেয়েছেন দরাজ কণ্ঠে। গানে উঠে এসেছে প্রেম, বিরহ, স্রষ্টার বন্দনা আর মানুষের দুঃখ কষ্টের কথা। ১৬শরও বেশি গান লিখেছেন ও সুর করেছেন তিনি।
বাউল সম্রাটের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সান্নিধ্যে ছিলেন শিষ্য আবদুর রহমান। কিংবদন্তি এই লোকশিল্পীর নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। জানান তার গানের গুরুর নানা স্মৃতি বিজড়িত গল্প। এদিকে আব্দুল করিমের স্মৃতি ধরে রাখতে সরকারের সহযোগিতা চায় তার পরিবার।
একুশে পদক জয়ী গুণী এ শিল্পীর জন্ম ও মৃত্যুদিনে উজানধল গ্রামে ভিড় করেন ভাটি অঞ্চলের বাউলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ভক্ত-অনুরাগীরা।
তার রচিত গানের মধ্যে ‘বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে’, ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘রঙ এর দুনিয়া তরে চায় না’, ‘তুমি রাখ কিবা মার’, ‘ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ুরপংখী নাও’, ‘তোমার কি দয়া লাগে না’, ‘আমি মিনতি করি রে’, ‘তোমারও পিরিতে বন্ধু’, ‘সাহস বিনা হয়না কভু প্রেম’, ‘মোদের কি হবেরে’, ‘মানুষ হয়ে তালাশ করলে’, ‘আমি বাংলা মায়ের ছেলে’, ‘আমি কূলহারা কলঙ্কিনী’, ‘কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া’, ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’, ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধুসহ অসংখ্য গানগুলি মানুষের মুখে মুখে ফিরে।
শাহ আবদুল করিম ইব্রাহিম আলী ও নাইওরজানের ঘরে ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খুব ছোটবেলায় তার গুরু বাউল শাহ ইব্রাহিম মাস্তান বকশ থেকে সঙ্গীতের প্রাথমিক শিক্ষা নেন।